বাংলাদেশের মাত্র ৩১৫টি পণ্যের বাধ্যতামূলক মান সনদ আছে। বাকি পণ্যগুলো স্বেচ্ছামূলক পণ্য হিসেবে সনদ দেয়া হয়েছে। ফলে পণ্য বা সেবার সুনির্দিষ্ট মান ও নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোক্তারা। এমনকি নকল ও নিম্নমানের পণ্য ও সেবায় প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে আহরহ। এমন প্রেক্ষাপটে পণ্যের প্রত্যাশিত মান বা সেবা পেতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএসটিআইয়ের পদার্থ (ফিজিক্যাল) রসায়ন (কেমিক্যাল) পরীক্ষণ ল্যাবরেটরির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, পর্যাপ্ত মান বা সেবা না থাকায় উৎপাদিত এবং আমদানি পণ্যকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় নিতে ৬৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন ও আধুনিকায়ন করা হবে। এর মধ্যে ১৮টি রসায়ন পরিবীক্ষণ ল্যাবের আধুনিকায়ন এবং ২০টি ল্যাব নতুন স্থাপন করা হবে। ১৪টি পদার্থ ল্যাবের আধুনিকায়ন এবং ১৫টি নতুন ল্যাব স্থাপন করা হবে। রসায়ন পরীক্ষণের ল্যাবগুলোর ব্যবহারের জন্য ৬৪১টি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, ২৫৮ প্রকার কেমিক্যাল এবং ১৩৫ প্রকার গ্লাসওয়ার কেনা হবে। আর পদার্থ পরীক্ষণের ল্যাবগুলোর ব্যবহারের জন্য ২৪০টি আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং পাঁচটি সিস্টেম ল্যাব স্থাপন করা হবে। এছাড়া রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে নিজস্ব জমিতে ১২ হাজার ৫১৯ দশমিক শূন্য ৪ বর্গমিটার আয়তনের ১৩ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কার্যালয়ের বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে আগের পদ্ধতিতে সেবা দেয়া হলেও এ প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়েল ইকুইপড ল্যাব তৈরি করা হবে। এ ল্যাবগুলো আরো অথেনটিকেটেড সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে। এছাড়া বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেস্টিং ক্যাপাসিটিও বাড়বে।’
তিনি উল্লেখ করেন, যেসব পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য বিদেশীদের ওপর নির্ভর করতে হয় তার তালিকা বিএসটিআইকে তৈরি করতে বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছিলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
বিএসটিআইয়ের সক্ষমতার প্রশ্ন তুলে শুধু নতুন প্রকল্প নিলেই জনসাধারণের প্রত্যাশিত ফল আসবে তা কিন্তু নয় বলে মনে করেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে জনবল বা যন্ত্রপাতি (সরঞ্জাম) থাকলেও সেগুলোর সঠিক ব্যবহার হয় না। আসল সমস্যা হলো কর্মীদের আন্তরিকতার অভাব এবং নেতৃত্বে সমস্যা। বর্তমানে সরকারি কর্মীদের বেতন অনেক বাড়লেও তাদের কর্মদক্ষতা বাড়েনি। ফলে সাধারণ জনগণ নাগরিক সেবা আগের তুলনায় কম পাচ্ছে। এতে শুধু অর্থ খরচই বেড়েছে, কিন্তু কাজের ফল বাড়েনি।’